Thursday, 1 October 2015

হিটলার

এযাবৎ অ্যাডলফ হিটলার সম্পর্কিত পোস্ট গুলিতে তাঁর নানা ধরনের কর্মকান্ড তুলে ধরেছি | কিন্তু আজ হিটলারের কুকর্ম গুলিকে দূরে রেখে ইভা ব্রাউনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কে তুলে ধরব | হিটলারের প্রেমিকা ছিলেন ইভা আন্না পাউলো ব্রাউন | এবং পরবর্তীতে হিটলার তাঁকে বিয়েও করেছিলেন | কিন্তু বিবাহের 40ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে হিটলার সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেছিলেন | কার্যত বাধ্য হয়েই হিটলার কে আত্মহত্যা করতে হয়েছিল | সে যাইহোক হিটলার অবশ্য ইভাকে অন্যত্র গিয়ে সুন্দর জীবন যাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন | কিন্তু ইভা হিটলার কে প্রচন্ড ভালোবাসতেন | ফলে তিনি অন্যত্র না গিয়ে প্রেমিক হিটলারের সঙ্গে জীবন বিসর্জন দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন এবং একই সঙ্গে দুজনে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন |

হিটলারের জন্ম 1889সালের 20শে এপ্রিল আর ইভার জন্ম 1912সালের 12ই ফেব্রুয়ারি তাদের মধ্যে বয়সের বিস্তর ব্যবধান ছিল | ইভা হিটলারের থেকে 23বছরের ছোটো ছিলেন | কিন্তু বয়সে ব্যবধান তাদের সম্পর্কে বাধাদান করেনি | হিটলারের সঙ্গে ইভার প্রথম দেখা হয় মিউনিখে | তখন ইভার বয়স ছিল 17| ইভা হিটলারের পার্সোনাল ফটোগ্রাফারের সহকারী ও মডেল হিসাবে কাজ করতেন | প্রথম দেখার দু বছর পর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত সাক্ষাৎ হত | 1936সালের পর থেকে হিটলারের বার্গহফ নামের বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন ইভা | হিটলারের এই বাড়ি ছিল ব্যাভারিয়ান পর্বতশৃঙ্গের বার্খটেসগার্ডেন
মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় | ইভা জনসমক্ষে তেমন আসতেন না | তবে 1942 সালে তাঁর বোনের সাথে হিটলারের এক সামরিক অফিসারের বিবাহ হলে তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায় |
1945সালের 30শে এপ্রিল আত্মহত্যার পূর্বেও ইভা একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন 1936সালে | খুব সম্ভবত হিটলারের সাথে মনমালিন্যের জন্যেই সেবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন | ইভা ব্রাউনের ধূমপান করা, অতিরিক্ত প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার এবং ছোটো পোশাক পরে রোদ পোহানো ইত্যাদি নানা কার্যকলাপ হিটলার কে ক্ষুব্ধ করত | তিনি এসব পছন্দ করতেন না |
1945সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে হিটলারের পতন যখন আসন্ন তখন হিটলার অধিকাংশ সময়ই ব্যাঙ্কারে থাকতেন | এই ব্যাঙ্কারেই হিটলার এবং ইভার বিবাহ হয় 1945সালের 29শে এপ্রিল এবং বিবাহের পর দিন 1945সালের 30শে এপ্রিল তারা আত্মহত্যা করেন |
 

HITLAR

হিটলার সম্পর্কিত পূর্ববর্তী দুটি আলোচনায় আমি যথাক্রমে হিটলারের পিতার বৈবাহিক ঘটনা ক্রম এবং তারপরের আলোচনায় হিটলার কিভাবে জার্মানির শাসনক্ষমতা দখল করেছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি | আজ আমি হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানি কিভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করল তানিয়েই আলোচনা করব |

1935 সালে হিটলার জার্মানিতে নতুন আইন চালু করে দেশের নাগরিকদের দুটি ভাগে ভাগ করে দিলেন | ( জেন্টিল এবং জু) জেন্টিল অর্থাৎ জার্মান আর জু অর্থায় ইহুদী | এই আইনে বলা হল জার্মানরা দেশের প্রকৃত নাগরিক আর জু 'রা জার্মানিতে বসবাসকারী হলেও তারা এদেশের নাগরিক নন | প্রয়োজনে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে |
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল মিত্রপক্ষ | কিন্তু 1933 সালে হিটলার জার্মানির হাল ধরার সাথে সাথে জার্মানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে | হিটলার জার্মানির শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলি মানতে অস্বীকার করেন | 1934 সালে হিটলার রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে নিজেকে জার্মানির ফুয়েরার হিসাবে ঘোষণা করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই নিজেকে দেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন | হিটলার তাঁর সমস্ত ক্ষমতা নিয়োগ করেছিলেন দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে | এই কাজে তাঁর সহযোগীরা ছিলেন কয়েকজন সুদক্ষ সেনানায়ক এবং প্রচারবিদ | কিছুদিনের মধ্যেই হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে রাইনল্যান্ড অধিকার করেন | অষ্ট্রিয়া এবং ইতালি একসূত্রে আবদ্ধ হয় জার্মানির সাথে | ইতালির সর্বাধিনায়ক ছিলেন মুসোলিনী | একদিকে ইতালীর ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যদিকে নাৎসি জার্মানি | বিশ্বজয়ের স্বপ্নে উন্মত্ত হয়ে ওঠে ইতালি | প্রথমে আলবেনিয়া ও পরে ইথিওপিয়ার বেশ কিছু অংশ দখল করে নেয় ইতালি | অবশেষে হিটলার পোল্যান্ডের কাছে ডানজিগ ও পোলিশ করিডর দাবি করলেন | যাতে এই অঞ্চলে সৈন্য সমাবেশ করতে পারেন | পোল্যান্ডের সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে | পোল্যান্ডের ধারণা ছিল হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে ইউরোপের অন্যান্য দেশ পোল্যান্ডের পক্ষ নেবে | এবং ইউরোপের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে হিটলার পরাজিত হবে | কিন্তু 1939 সালের 1লা সেপ্টেম্বর জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করলে মাত্র 15দিনের মাথায় পোল্যান্ড পরাজিত হয় এবং জার্মানি পোল্যান্ড অধিকার করে | পোল্যান্ডের পর হিটলার দখল করলেন নরওয়ে ও ডেনমার্ক | নরওয়েতে বিরাট সংখ্যক ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন ছিল | এই আক্রমণের ফলে অধিকাংশ ব্রিটিশ সেনা নিহত হয় | এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলিন পদত্যাগ করলেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন চার্চিল | এরপর হিটলার ফ্রান্স আক্রমণের পরিকল্পনা করেন | ফ্রান্স নিজ সুরক্ষার জন্য. জার্মান সীমান্তে দূর্ভেদ্য ব্যূহ সৃষ্টি করেছিল | যাকে বলা হতো ম্যাজিনো | বেলজিয়াম আক্রমণ করে সেই দেশের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সীমান্তে উপস্থিত হলো জার্মান বাহিনী | সোঁদায় তুমুল যুদ্ধের পর ফরাসি বাহিনী পরাজিত হয় | ফরাসিদের এই বিপর্যয়ের সুবিধা নেওয়ার জন্য ইতালি নিজেকে জার্মানির মিত্র হিসাবে ঘোষণা করে যুদ্ধে যোগ দেয় | এই ভাবে সমগ্র ইউরোপ -আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ আগুন | আজ এ পর্যন্তই থাক পরবর্তী আলোচনায় আরও নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে |

হিটলার

হিটলার সম্পর্কিত পূর্ববর্তী আলোচনায় আমি হিটলারের পিতা অথাৎ এলোইস হিটলারের বৈবাহিক সম্পর্কের ঘটনাক্রম তুলে ধরেছিলাম | আজ আমি হিটলার কিভাবে জার্মানির ক্ষমতা দখল করলেন তা নিয়েই আলোচনা করব | মায়ের মৃত্যুর পর সংসারের বন্ধন থেকে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করেন | এবং ভিয়েনা চলে আসেন | ভিয়েনাতে এসে তিনি মজুরের কাজ শুরু করেন | এরপর রং বিক্রি করতে আরম্ভ করেন | এই ভিয়েনা অবস্থান কালেই তাঁর মধ্যে জেগে ওঠে চরম ইহুদী বিদ্বেষ | কারণ তখন জার্মানির অধিকাংশ কলকারখানা , সংবাদপত্রের মালিক ছিল ইহুদীরা | দেশের অর্থনীতির অনেকটাই ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত | কিন্তু হিটলার কিছুতেই এটিকে মেনে নিতে পারছিলেন না যে, জার্মান দেশে বাস করে জার্মানিদের উপরেই প্রভুত্ব করবে ইহুদীরা | 1912 সালে তিনি জার্মানি ছেড়ে এলেন মিউনিখে | দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে হিটলারের কেটে গেল আরও দুটি বছর | এরপর 1914 সালে শুরু হল প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ | হিটলার সৈনিক হিসাবে যুদ্ধে যোগ দিলেন | যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গোটা জার্মানি জুড়ে দেখা দিল বিশৃঙ্খলা আর অনাহার | তার মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বিভিন্ন বিপ্লবী দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল | এদের উপর গোয়েন্দা গিরি করার জন্য হিটলার কে নিয়োগ করল কতৃপক্ষ | সেই সময় প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল লের্বার পার্টি | হিটলার সেই পার্টির সদস্য হলেন | অল্পদিনের মধ্যেই পাকাপাকিভাবে পার্টিতে নিজের স্থান করে নিলেন হিটলার | এক বছরের মধ্যেই তিনি হলেন পার্টি প্রধান | দলের নতুন নাম রাখা হয় ' ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স পার্টি ' | পরবর্তীকালে এই দলকেই বলা হত ' নাৎসি পার্টি ' | 1920 সালের 24ফেব্রুয়ারি প্রথম নাৎসি দলের সভা ডাকা হল | এতেই হিটলার প্রকাশ করলেন তাঁর পঁচিশ দফা দাবি | এরপর হিটলার প্রকাশ করলেন স্বস্তিকা চিহ্ন যুক্ত দলের পতাকা | ক্রমশই নাৎসি দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে | তিন বছরের মধ্যেই দলের সদস্য সংখ্যা হয় প্রায় 5600 0 এবং এটি জার্মানির রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রাহন করতে থাকে | হিটলার চেয়েছিলেন মিউনিখে তাঁর দল ছাড়া অন্য কোনো দলের যাতে অস্তিত্ব না থাকে | এক সময় তাঁর পরিকল্পিত এক রাজনৈতিক চক্রান্ত ব্যর্থ হয় | এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়েন | তাঁকে এক বছরের জন্য ল্যান্ডসবার্গের
পুরোনো দূর্গে বন্দি করে রাখা হয় | জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন হিটলার | তার উগ্র মতবাদ. , বলিষ্ঠ বক্তব্য জার্মানদের আকৃষ্ট করে | দলে দলে যুবক তাঁর দলের সদস্য হতে আরম্ভ করে | সমস্ত দেশে জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠলেন হিটলার | 1933 সালের নির্বাচনে বিপুল ভোট পেলেন কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেন না | পার্লামেন্টের 647টির মধ্যে তার দলের আসন ছিল 288 | এর ফলে হিটলার বুঝতে পারলেন যে ক্ষমতা যদি দখল করতে হয় তাহলে অন্য পথ ধরতে হবে | কোনো দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পাওয়ায় হিটলার পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন | এবার ক্ষমতা দখলের জন্য শুরু হল তাঁর ঘৃণ্য চক্রান্ত | বিরোধীদের অনেকেই খুন হলেন | অনেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে গেল | বিরোধী দলে নিজের দলের লোক প্রবেশ করিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেন | অল্পদিনের মধ্যেই বিরোধী পক্ষকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে হিটলার হয়ে উঠলেন শুধু নাৎসি দলের নয়. , সমগ্র জার্মানির ভাগ্য বিধাতা | এই ভাবে হিটলার বিভিন্ন উত্থান পতনের. মধ্য দিয়ে নিজেকে জার্মানির অধিপতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন. | পরবর্তী আলোচনায় হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানির প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যোগদান নিয়ে আলোচনা করব |


অ্যাডলফ হিটলার

বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রধান বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে চর্চিত চরিত্র হলেন অ্যাডলফ হিটলার | হিটলারকে নিয়ে প্রায় প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কমবেশি কৌতুহল লক্ষ্যকরা যায় | তবে আজ আমি হিটলারের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করব না | কীভাবে হিটলারের জন্ম হল তা নিয়েই আলোচনা করব অথাৎ হিটলারের পিতার বিবাহের ঘটনাক্রম সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব |
হিটলারের মূল নাম হল অ্যাডলফ | পিতা এলোইস হিটলারের নামানুসারে তাঁর নাম হয়েছে অ্যাডলফ হিটলার | হিটলারের পিতা এলোইস হিটলারের ( হিটলারের পিতার নাম এলোইস হিটলার) প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল আন্না গ্লাস্ল হোরের | এই স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে 19 বছর বয়সী ফ্রান্সিস্ক মাৎজেল্সবার্গার
নামক চাকুরানির সাথে হিটলারের পিতার প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে |কিন্তু রোমান ক্যাথলিক মতে তিনি মাৎজেল্সবার্গার কে বিবাহ করতে ব্যর্থ হন
| কিন্তু মাৎজেল্সবার্গারের সাথে হিটলারের পিতা এলোইস হিটলারের সম্পর্ক অটুট থাকে |1876 সালে ক্লারা পোলজল এই পরিবারে পরিচারিকা হিসাবে যোগদান করেন| মূলত ক্লারা ছিলেন এলোইসের দূর সম্পর্কের ভাতিজি | 1880 সালের 7নভেম্বর এলোইসের প্রথম স্ত্রী আন্না গ্লাল্স হোরের সাথে এলোইসের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় | অবশ্য এই বিবাহ বিচ্ছেদে গির্জার অনুমোদন ছিল না | 1882 সালের 13ই জানুয়ারি এলোইস এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মাৎজেল্সবার্গারের প্রথম সন্তানের জন্ম হয় | এই সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল এলোইস মাৎজেল্সবার্গার | 1883 সালের 6ই এপ্রিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এলোইসের প্রথম স্ত্রী আন্না গ্লাল্স হোরের মৃত্যু হলে এলোইস এবং মাৎজেল্সবার্গারের বিবাহে আর কোনো আইনি বাধা থাকে না এবং ওই বছরের 22শে মে উভয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয় | এরপর মাৎজেল্সবার্গার দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ভিয়েনা যান এবং সেখানে এ্যাঞ্জেলা হিটলারের জন্ম হয় | এই সময় মাৎজেল্সবার্গার ফুসফুসের দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন | তাঁকে র্যান্সহোফেন গ্রামে এনে রাখা হয় | এই সময় তাঁকে দেখা শোনার জন্য ক্লারা কে পুনরায় আনা হয় | 1884 সালের 10ই আগষ্ট মাৎজেন্সবার্গার মৃত্যুবরন করেন | এর কিছুদিন পর এলোইসের দ্বারা ক্লারা গর্ভবতী হন | এরপর তিনি ক্লারাকে বিবাহ করার উদ্যোগ নিলে দূর সম্পর্কীয় ভাতিজি বলে গির্জা বাধা দেয় | পরে 1885 সালে 7ই জানুয়ারি গির্জা এই বিবাহে সম্মতি দেয় | বিবাহের 5মাস পরে অথাৎ 1885
সালের 17ই মে তাঁর প্রথম পুত্র গুস্তাভের জন্ম হয় | 1886 সালের 25শে সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় তাঁর দ্বিতীয় কন্যা আইডা | 1887 সালে তাঁর তৃতীয় সন্তান ওট্টো জন্মগ্রহনের পরপরই মারা যান | ডিফথেরিয়া রোগে ওট্টো মারা যায় | 1888 সালের. 2রা জানুয়ারি কন্যা আইডা মারা যায় | এরপর 1889. সালের 20 শে এপ্রিল জন্মগ্রহন করেন অ্যাডলফ হিটলার | হিটলার ছিলেন তাঁর পিতার তৃতীয় স্ত্রীর তৃতীয় সন্তান | পরের আলোচনায় হিটলারের রাজনৈতিক জীবনকে তুলে ধরব | আজ এ পর্যন্তই থাক|


পুরানো কৃষ্ণনগর



Wednesday, 30 September 2015

আজ শ্রীমতি অ্যানি ব্যাসান্তের জন্মদিন।।

আজ শ্রীমতী অ্যানি ব্যাসান্ত এর জন্মদিন । আমরা নিশ্চয়ই ইতিহাস বইতে হোমরুল  আন্দোলনের কথা শুনেছি । ভারতবর্ষে  সেই হোমরুল আন্দোলনের  পুরোধা ছিলেন অ্যানি ব্যাসান্ত । ১৮৪৭ সালের ১ লা অক্টোবর অ্যানি ব্যাসান্ত জন্মগ্রহণ করেন । তিনি আয়ারল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন । আয়ারল্যান্ডের  HOME RULE আন্দোলনের দারা প্রভাবিত হয়ে অ্যানি ব্যাসান্ত ভারতে home rule আন্দোলন শুরু করেন ।  ১৯১৬ সালের এপ্রিল মাসে বালগঙ্গ াধর তিলক হোমরুল আন্দোলনের সূচনা করেন । ঐ বছর সেপ্টেম্বর মাসে অ্যানি ব্যাসান্তে পৃথকভাবে হোম রুল লীগ গঠন করেন । দুটি লীগেরই উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূ র্ণ উপায়ে সায়েত্তশাসন অর্জন করা । হোম রুল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অ্যানি ব্যাসান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অ র্জন করেন । ১৯১৭ সালে কল কাতা কংগ্রেসের তিনি প্রেসিডেন্ট নি র্বাচিত হন । ১৯১৮ সালে অ্যানি ব্যাসান্তের মধ্যে দিধাগ্রস্থতা দেখা দেয় । ১৯১৮ সালে মন্টেগু চেমসফোর্ড স ংস্কার প্রকাশিত হলে অ্যানি ব্যাসান্ত তাঁর নিন্দা করেন , পরে মত পালটে একে সম র্থন করেন । ১৯৩৩ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর ৮৫ বছর বয়সে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার মাদ্রাস প্রেসিডেন্টির আডিয়ায় তিনি মারা যান ।

নাসিরুদ্দিন মহম্মদ হুমায়ুন

১৫৩০ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে বাবর মারা যান । মৃত্যু শয্যায় শুয়ে বাবর তাঁর পুত্র নাসিরুদ্দিন মহম্মদ হুমায়ুন কে উত্তরাধীকারী মনোণীত করেন ।  ১৫০৮ সালের মার্চ মাসে কাবুলে হুমায়ুন জন্মগ্রহণ করেন । ১৫০৬ সালে হুমায়ুনের মাতা মহিম বেগমের সাথে  বাবরের বিবাহ হয়েছিল । সম্ভবত ১৫৩০ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর বাবর মারা যান এবং তাঁর মৃত্যুর ৪ দিন পর ২৩ বছর বয়সে হুমায়ুন সিংহাসন আরহণ করেন । হুমায়ুন শব্দের অর্থ ভাগ্যবান । হুমায়ুন দুটি পর্যায়ে তাঁর শাসনকার্য চালিয়েছিলেন । প্রথম পর্যায় ১৫৩০-১৫৪০ আর দিতীয় পর্যায় হল ১৫৪৫-১৫৫৬ সাল পর্যন্ত । মাঝে ১৫৪০-১৫৪৫ পর্যন্ত শাসন করেছিল শের খা । মূলত শের খা র কাছে বিল্বগ্রামের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় ফলে ১৫৪০-১৫৪৫ পর্যন্ত শাসন কার্য তাঁর হাতের বাইরে ছিল । ১৫৪০-১৫৪৫ এই পাঁচ বছর হুমায়ুন নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান সামান্য আশ্রয় পাওয়ায় আশায় । তারপর অমরকোটার রানার আশ্রয়ে কিছুদিন কাটান । অবশেষে চলে যান পারস্যের শাহ তহমাস্পের দরবারে । এক চুক্তি করে মাধ্যমে হুমায়ুন তাঁর সাহায্যে কাবুল ও কান্দাহার দখল করেন । এরপর একে একে দখল করেন লাহোর , আগ্রা ও দিল্লী পুনঃপ্রতিষ্টিত হয় মুঘল সাম্রাজ্য । সদ্য প্রতিষ্টিত মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনাকালে অর্থাৎ ১৫৫৬ সালের ২৪ শে জানুয়ারি( তারিখ নিয়ে বিতর্ক আছে ) সন্ধ্যায় হুমায়ুন পাঠাগারে বসে বই পড়ছিলেন । হঠাৎ নিকটবর্তী মসজিদ হতে স ন্ধ্যাকালীন প্রার্থনার জন্য মুয়াজ্জিম এর আজানের ডাক শুনে তাড়াতাড়ি সিঁড়ী দিয়ে নামতে গিয়ে পদ স্খলনের ফলে তিনি পড়ে যান এবং মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ঞ্জান হারান । অতপর ১৫৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে হুমায়ুন মারা যান ।